ঘুরে দেখা দুনিয়া: লরা বেগলির তালিকা (প্রথম পর্ব)


  • জীবনজয়ী ডেস্ক   ঢাকা |
  • প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৯
ঘুরে দেখা দুনিয়া: লরা বেগলির তালিকা (প্রথম পর্ব)
ছবি: এআই

ফোর্বস ম্যাগাজিনের জন্য সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ৫০ টি স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ভ্রমন বিশেষজ্ঞ লরা বেগলি ব্লুম। ২০১৯ সালে বিগ সেভেন ট্রাভেল ওয়েবসাইট অবলম্বনে ব্লুমের লিখিত এই প্রতিবেদনটি অসংখ্য ভ্রমনপিয়াসী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভ্রমন মানে শুধু কতগুলো ফোটো তোলাতুলি নয় এরকম মনে করা লোকেদের অনেকেই ব্লুমের তালিকা দেখে নিজ-নিজ বাজেট মোতাবেক বছর ভ্রমন তালিকা প্রস্তুত করেন। ব্লুমের উল্লেখিত স্থানগুলোর উপরে অনলাইন অনুসন্ধান চালিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করে জীবনজয়ী টিম। মোট ১০ টি পর্বে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। 

পর্বঃ এক 

১. বালি, ইন্দোনেশিয়া 

সাগরের নীল জলরাশি, শুভ্র বালুকারাজি, মনোহরন সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সবুজ ধান খেত, মৃদুমন্দ বাতাস, দুপুরের সোনালু রোদ অথবা রাতের চাঁদে প্রাণ জুড়াতে হলে যেতে হবে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে। এখানে আছে পাহাড়, পর্বত, মন্দির ও হারিয়ে যাওয়ার মতো দিগন্ত বালির সৈকতগুলো সার্ফিং, ডাইভিং এবং স্নরকেলিংয়ের জন্য আদর্শ। বিশেষ করে কুটা, সেনুর এবং নুসা দুয়া সৈকত বিশ্ববিখ্যাত।  আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট এবং নাইটলাইফের জন্য বালির সেমিনিয়াক ও কুটা অঞ্চল খুবই জনপ্রিয়। এই দ্বীপটি শুধু বিলাসবহুল পর্যটকদের জন্যই নয়, ব্যাকপ্যাকার এবং বাজেট ট্রাভেলারদের জন্যও দারুণ উপযুক্ত। এখানে স্বল্পমূল্যের হোস্টেল থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ভিলা পর্যন্ত সব ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বালিতে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য কয়েকটি স্থান হচ্ছে কাওয়াহ ইজেন, নুসা লেম্বনগান, আন্ডারওয়াটার পেমুটেরান , টেম্পল গার্ডেন , নুসা পেডিং দ্বীপ, তামান ফেস্টিং ভ্যালি ও মাংকি ফরেস্ট উবুদ। এছাড়াও রয়েছে শিলাদ্বীপ ও তীর্থস্থান মন্দির – এগুলো ফটোগ্রাফির জন্য সেরা স্থান। বালির বিখ্যাত খাবার স্যাট, গ্রিল করা মাংসের সাথে বাদামের সসের কম্বিনেশনে অসাধারণ স্বাদ।  নারকেলের দুধ ও পাম চিনির মিশ্রনে তৈরি মিষ্টান্ন বুবুর কাকাং হিজাউ আঙুল চেটেপুটে খাওয়ার মতো সুস্বাদু। বালি তার স্বর্গীয় সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, আকর্ষণীয় বিনোদন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটন স্থান হিসাবে বিবেচ্য। 

 ২. মারাকেশ, মরক্কো 

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো।  উত্তরে ভুমধ্যসাগর আর পশ্চিমে অতলান্তিক মহাসাগর। মরক্কো প্রকৃতি ও ইতিহাসের অবারিত এক স্থান। মরক্কোর মারাকেশ এক প্রাচীন শহর। মারাকেশের প্রাচীন মসজিদ, সবুজ মাঠ, নীল সাগর, লাল দেয়াল, বিশাল দুর্গ, রঙিন দালান এসবে মুগ্ধ না হয়ে থাকার উপায় নেই। তুষার ঢাকা অ্যাটলাস পর্বতমালার পাদদেশে রাজধানী থেকে ৩২৭ কিমি দক্ষিণে এই শহর অবস্থিত। মারাকেশকে বলা হয় 'লাল শহর' । একাদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই শহরে প্রাচীন আর আধুনিক বিষয়বস্তুর এক দারুণ মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। মারাকেশের লাল দেয়াল, কুতুবিয়া মসজিদ, মেদিনা কোয়ার্টার, জামা আলা ফানহা স্কোয়ার, মিনারা উদ্যান, বাব আঙুয়া ফটকসহ অনেকগুলো খোলা বাজার ভ্রমনকারীদের খুব করে আকর্ষণ করে। 


 ৩. নিউ অর্লিয়েন্স, যুক্তরাষ্ট্র 

নিউ অর্লিয়েন্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা রাজ্যের দক্ষিণ-পুর্বাঞ্চলীয় মিসিসিপি নদীর তীরে অবস্থিত একটি শহর। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সুস্বাদু খাবারের জন্য বিশ্ব জুড়ে নিউ অর্লিয়েন্স পরিচিত।  ঐতিহাসিক বাড়িঘর এবং স্ট্রিটকার থেকে শুরু করে সুন্দর সমাধিস্থল কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাদুঘরের মতো অনেক কিছু দেখতে পাবেন নিউ অর্লিয়েন্স। বিগ ইজি ডাকনামে পরিচিতি এই শহর, আপনি শিল্পপ্রেমী, ইতিহাসপ্রেমী অথবা সংস্কৃতিপ্রেমী যাই হোন না কেন, কোন না কোনভাবে আকর্ষণ করবে। 

নিউ অর্লিয়েন্স জ্যাজ সংগীতের জন্মস্থান হিসেবে বিশেষ ভাবে খ্যাত। এখানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় মার্ডি গ্রা উৎসব যা লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত মার্ডি গ্রা রঙবাহারি পোশাকের প্যারেড, নাচ-গান-বাজনা আর পার্টিতে মাতোয়ারা হবার সুবর্ন সুযোগ। শহরের ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার, জ্যাকসন স্কয়ার, গার্ডেন ডিস্ট্রিক্ট, ন্যাশনাল ওয়ার্ল্ড ওয়ার মিউজিয়াম ,মিসিসিপি নদী ও স্টিমবোট রাইডের আকর্ষণও প্রবল। গাম্বো, জাম্বালায়া ও বেইনেটসের নিউ অর্লিয়েন্সের ট্রেডমার্ক খাবার।  

৪.ক্যারি, আয়ারল্যান্ড

আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত ক্যারি কাউন্টি। দৃষ্টিনন্দন পাহাড়, হ্রদ এবং আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী সুন্দর ল্যান্ডস্কেপের জন্য ক্যারি পর্যটক টানে। এই এলাকাটিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য ছাড়াও আয়ারল্যান্ডের ইতিহাস এবং আয়ারল্যান্ডের ঐতিহ্য একসঙ্গে মিশে গেছে। রিং অফ ক্যারি, গ্যাপ অফ ডানলো, ক্যারানটও হিলস, গ্যালারাস ওরাটরি, বেলিকারবেরি দুর্গের মত অনেকগুলো আকর্ষণ আছে ক্যারিতে। এছাড়া এই এলাকার স্যামন, কাঁকড়া, গলদা চিংড়ি ও আইরিশ স্টু রান্নার স্বাদের বিপুল খ্যাতি। 

পাহাড়ে-চারণভূমিতে ঘোরাঘুরি, বিস্তীর্ন এলাকায় ঘোড়া দৌড়ানো, হ্রদে নৌকা চালানোর স্বাদ ক্যালিতে এসে মিটিয়ে নেন ভ্রমনকারীরা। 

৫. সিডনি, অস্ট্রেলিয়া 

কোমল আবহাওয়া এবং নানা ঐতিহ্যের সম্মিলন অস্ট্রেলিয়া সিডনিকে করে তুলেছে নান্দনিক এক পর্যটন কেন্দ্র। এই শহরের অপেরা হাউস ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। পাশেই রয়েছে বিখ্যাত 

সিডনি হারবার ব্রিজ, যেখানে দাঁড়িয়ে ঝলমলে শহরটিকে এক পলকে চোখ বুলিয়ে নিতে পারবেন। কোলাহল মুক্ত পরিবেশ আর একই সাথে নীল সাগর উপভোগ করতে হলে যেতে হবে ডার্লিং হারবারে। সাথে পাবেন নানারকম খাবার সাজানো রেস্তোরাঁ। শহর দেখতে দেখতে যদি মনে হয় একটু রৌদ্রস্নান করা দরকার তার জন্য রয়েছে সিডনির নাম করা বন্ডি বিচ। এছাড়াও  স্থাপত্যশিল্পের প্রতি আগ্রহীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় কুইন ভিক্টোরিয়া বিল্ডিং। 

শহর বাদ দিয়ে প্রকৃতির মাঝে একটু ডুব দিতে চাইলে ব্লু মাউন্টেইন চমৎকার একটি স্থান। অসংখ্য পাহাড়, ছোট ছোট ঝর্ণা, ইউক্যালিপটাস বনের অন্যরকম সৌন্দর্য প্রকৃতির মাঝে আপনাক হারিয়ে যেতে বাধ্য করবে।

 



ক্যাটাগরি: ভ্রমণ

         

  রেটিং: ০

এই বিভাগের আরও পোস্ট

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।